সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে জনবল ও যন্ত্রপাতি সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নিন
- আপলোড সময় : ১২-১০-২০২৬ ০৯:০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১২-১০-২০২৬ ০৯:০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন
জনবল সংকট, যন্ত্রপাতির অভাব, অচল অ্যাম্বুলেন্স ও আইসিইউ’র অকার্যকারিতা - সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা আজ নানা সংকটে জর্জরিত। হাওরাঞ্চলের লাখো মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা এই হাসপাতালের এমন দুরবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
একটি সরকারি হাসপাতাল শুধু একটি ভবন কিংবা শয্যাসংখ্যার নাম নয়; এটি সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার আশা, বিপদের সময় নির্ভরতার জায়গা। বিশেষ করে হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলার মানুষের কাছে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ হাসপাতালটির বর্তমান চিত্র উদ্বেগজনক। কাগজে-কলমে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটের কারণে কার্যত ১০০ শয্যার সক্ষমতা নিয়ে চলছে এর কার্যক্রম। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ৭৪টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ২৩ জন। নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীর পদেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি। এমন বাস্তবতায় রোগীদের কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, চিকিৎসক দেখাতে দীর্ঘ সারি এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সীমাবদ্ধতা রোগীদের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে এসে সময়মতো সেবা না পেয়ে অনেককে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। এতে দরিদ্র ও নি¤œ আয়ের মানুষের চিকিৎসাব্যয় বাড়ছে, যা তাদের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত ১০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা যায়নি। সংকটাপন্ন রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠাতে হচ্ছে। অথচ মুমূর্ষু রোগীর ক্ষেত্রে সময়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসুবিধা সময়মতো না পাওয়ার অর্থ কখনো কখনো জীবন-মৃত্যুর ব্যবধান তৈরি হওয়া। অন্যদিকে, হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স দেড় বছর ধরে অকেজো পড়ে থাকা প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনারও একটি গুরুতর দৃষ্টান্ত। জরুরি রোগী পরিবহনে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করতে গিয়ে স্বজনদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতির দায় শুধু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। সীমিত জনবল ও সরঞ্জাম নিয়ে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়া যেমন কঠিন, তেমনি প্রয়োজনীয় বরাদ্দ, নিয়োগ ও সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের দায়িত্ব। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ইতিমধ্যে জনবল সংকটের বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। এখন প্রয়োজন আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান পদক্ষেপ।
আমরা মনে করি, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের সংকট সমাধানে অবিলম্বে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। শূন্য চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য পদের বিপরীতে দ্রুত নিয়োগ দিতে হবে। ২৫০ শয্যার উপযোগী চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ, আইসিইউ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু এবং সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সচল করার ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি হাসপাতালের সেবার মান ও অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার। ভৌগোলিক অবস্থান কিংবা আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সুনামগঞ্জের মানুষ মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন না। নামের সঙ্গে বাস্তব সেবার সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। ২৫০ শয্যার হাসপাতালকে সত্যিকার অর্থে ২৫০ শয্যার সক্ষমতায় উন্নীত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে - এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়